শক্তিশালী স্থানীয় মুদ্রা এবং রফতানি বাজারে ভারতের বড় প্রত্যাবর্তনের ফলে ২০২৬ সালে থাইল্যান্ডের চাল রফতানি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। থাই রাইস এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটির চাল রফতানির পরিমাণ ৭০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
থাইল্যান্ডের চাল রফতানি কমার প্রধান কারণ স্থানীয় মুদ্রা বাথের শক্তিশালী অবস্থান। গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে বাথের বিনিময় হার প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে থাই চালের দাম ভারত ও ভিয়েতনামের তুলনায় টনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ ডলার বেশি পড়ছে। বর্তমানে থাইল্যান্ডের সাধারণ মানের সাদা চালের দাম টনপ্রতি ৩৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে ভিয়েতনামের চাল টনপ্রতি ৩৬২ ডলার এবং ভারতের চাল ৩৫১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে ভারত চাল রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর বিশ্ববাজারে দেশটির আধিপত্য বাড়ছে। এ শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের কারণে থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো পুরনো বাজার হারাচ্ছে।
অন্যদিকে ভিয়েতনামের চালের বাজারও বর্তমানে বেশ স্থিতিশীল। ভারত ও ভিয়েতনামের চালের দাম কম হওয়ায় বড় আমদানিকারকরা এখন থাইল্যান্ডের বদলে এ দুই দেশের দিকেই বেশি ঝুঁকছে।
রফতানি হ্রাসের ফলে থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ধানের এ মূল্যহ্রাস সরাসরি দেশটির কৃষকদের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন শুল্কনীতির কারণে দেশটিতে থাই চাল রফতানি চলতি বছরের শুরুতেই প্রায় ৩৪ শতাংশ কমেছে।